জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে অংশীজনের অংশগ্রহণে সভা-৪ অনুষ্ঠিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে অংশীজনের অংশগ্রহণে সভা-৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেলে প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল কনফারেন্স কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. তুষার কান্তি সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। সঞ্চালনা করেন এপিএ ফোকাল পয়েন্ট ও অতিরিক্ত পরিচালক (অডিট) রাধেশ্যাম।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আর এজন্য সকলকে একত্রিত থেকে কাজ করে যেতে হবে। অপপ্রচারে বিচলিত হওয়া যাবে না। যারা এ ধরনের অপপ্রচারে যুক্ত থাকেন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চায়। তারা আমাদের ভালো কাজ দেখে না। তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করতে চায়। তাই এদেরকে উপেক্ষা করে আমাদের কাজ করে যেতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে।
উপস্থিত অংশীজনের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। আপনারা ভালো কাজ করছেন। দুয়েকজন দুষ্ট মানুষের কাছে আপনারা আত্নসমর্পণ করবেন না। দুষ্টরা সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকে কিন্তু ভালো যারা তাদের মধ্যে কোনো একতা নেই। তাই ভালো যারা তাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ইউজিসি এপিএ র‌্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির চিত্র তুলে ধরে বলেন উপাচার্য, আমরা ২০২১ সালে ৩৯তম ছিলাম ২০২২ সালে ২৯তম হয়েছি। এরপর ২০২৩ সালের র‌্যাংকিংয়ে আমরা ১৪তম হয়েছি। আমাদের এই সাফল্যে অনেকের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা এতে বিচলিত নই। আমরা আমাদের লক্ষ্যপূরণে কাজ করে যাবো। আমরা আগামীতে প্রথম দশের মধ্যে স্থান করে নিতে চাই।
সভায় বিভিন্ন বিভাগ/দপ্তর প্রধানগণসহ নানা অংশীজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অভিযোগ প্রতিকার ও নিষ্পত্তি (জিআরএস) এবং জিআরএস সফ্টওয়্যার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অভিযোগ প্রতিকার ও নিষ্পত্তি (জিআরএস) এবং জিআরএস সফ্টওয়্যার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ মে ২০২৪) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর।
এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সাহাবউদ্দিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সচিব ড. ফেরদৌস জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। সম্পদব্যক্তি হিসেবে প্রশিক্ষণ দেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহকারী সচিব (আইন) মোহাম্মদ শোয়াইব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (আইন) মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্ট নিহত তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। প্রশিক্ষণে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিযোগ প্রতিকার ও নিষ্পতি শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে কর্মশালা আয়োজন করায় আয়োজকবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে চতুর্থ শিল্পবিল্পবের অভিযাত্রায় শামিল হয়ে স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে সকলের করণীয় দিক সম্পর্কেও বক্তব্যে আলোকপাত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ের নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, আমাদের সকলের সামনে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। কেননা আমরা এখানে উপস্থিত সকলেই ‘ওল্ড স্কুল’ শিক্ষা পদ্ধতিতে শিখে আসা ছাত্র। অর্থাৎ আপনি আমি যে ধাচে শিক্ষা নিয়ে এসেছিলাম সেটি এখন পাল্টে গেছে। যেহেতু এ পদ্ধতি পাল্টে গেছে এবং আমরা এখনো কর্মরত আছি তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছেÑএই পাল্টানো পদ্ধতির সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। যদি সেটা না করি তাহলে আমি নিজে যেমন পিছিয়ে যাবো; ঠিক তেমনে যে প্রতিষ্ঠানে আছি সে প্রতিষ্ঠানও পিছিয়ে যাবে।
অভিযোগ নিষ্পত্তি ও প্রতিকার বিষয়ে জানার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, অভিযোগ প্রদান ও অভিযোগ সমন্বয়ের ব্যাপারে একটা পুস্তিকা আছে। ২০১৫ এটি বের হয়েছিল এবং এটি সংশোধিত হয়েছিল ২০১৮ সালে। এই পুস্তিকাটি যদি আপনারা সবাই সংগ্রহ করে পড়ে নেন তাহলে এ বিষয়টি আপনারা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
আজকের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের আলোচ্য বিষয়ের উপর আলোচনা-পর্যালোচনা থেকে অভিযোগ প্রতিকার বিষয়ে বিস্তারিত জানার সুযোগ ঘটবে, যা তাঁদের স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলেও মাননীয় উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং কর্মশালার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
এসময় বিভিন্ন বিভাগ/দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৪তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের উদযাপন করা হয়েছে

যথাযথ মর্যাদা ও কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৪তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের উদ্যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আলোক সজ্জা, প্রদীপ প্রজ্বালন, আলোচনা সভাসহ দুই দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুরুতেই ২৫ মার্চ কাল রাত স্মরণে সোমবার (২৫ মার্চ) রাত ১১ টায় ক্যাম্পাসে বø্যাকআউট করা হয়। ফলে জাতীয় কর্মসূচির সাথে সংগতি রেখে এক মিনিট বিদ্যুতবিহীন গোটা ক্যাম্পাস অন্ধকারাচ্ছন্ন করা হয়।
এরপর রাত সোয়া ১১টায় প্রথমে ক্যাম্পাসের বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ও পরে ‘চির উন্নত মম শির’ প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়। মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর, ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীরসহ এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, বিভাগ ও দপ্তর প্রধানগণ, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রদীপ প্রজ্বালন শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ কি সুন্দর একটা নাম। অথচ এই সুন্দর নামের আড়ালে ইতিহাসের জঘন্যতম কাজ পাকিস্তানিরা করেছিল। তারা অপারেশন সার্চ লাইট নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালিদের গুলি করে হত্যা করেছিল হাজার হাজার মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ঘুমন্ত মানুষের উপর তারা নির্বিচারে গুলি করে শত শত বাঙালিকে হত্যা করা শুরু করে দেয়। একাত্তরের ২৫ মার্চের রাত ইতিহাসে কাল রাত হিসেবে চিহ্নিত। এই রাতে যে গণহত্যা হয়েছিল তাকে হয়ত ইংরেজিতে ‘ম্যাস কিলিং’ বলা যেতে পারে কিন্তু তাতেও এই হত্যার নৃশংসতা বোঝানো যায় না। বরং এই নির্মমতাকে বোঝানোর জন্য ইংরেজিতে যে ‘জেনোসাইড’ শব্দটি আছে তার একটি ভালো বাংলা শব্দ আমাদের ভাবতে হবে।
২৫ মার্চ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বিচারের জোরালো গণদাবি পুনরায় ব্যক্ত করে উপাচার্য ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানীরা যে গণহত্যা করেছিল সে কাজটি ইতিহাসের জঘন্যতম কাজ। জঘন্যতম এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এখনো আমরা পাইনি। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই-এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে এই গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। গণহত্যার সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের বিচার আন্তর্জাতিকভাবে করতে হবে। এটাই সময়ের গণদাবি।
দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সঙ্গীত সহযোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যে গিয়ে জমায়েত হয়। পরে শহিদদের স্মরণে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীরসহ অন্যরা ধারাবাহিকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর প্রধান, হল প্রভোস্টগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলসহ পেশাজীবি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে পায়রা অবমুক্ত করা হয়। এরপরে শোভাযাত্রাটি বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য থেকে ক্যাম্পাসের ‘চির উন্নত মম শির’ প্রাঙ্গণে গিয়ে জমায়েত হয়। এখানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। উপাচার্যের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীরসহ অন্যরা ধারাবাহিকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য, বায়ান্ন রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহিদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের স্মরণ করেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিক ইতিহাস তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, স্বাধীনতা দিবস একটি দিবস মাত্র নয়। এই দিবসের সাথে আমাদের মুক্তির ও চেতনার ব্যাপারটি যুক্ত রয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুধু ১৯৭১ সালটির উপর নির্ভরশীল নয়। বাঙালির যে স্বাধীনতার স্পৃহা সেটি বহু বছর পুরোনো। বাঙালি যখন পরাধীন হয়ে যায়। একটি বৃহৎ পরিমন্ডলের অংশ হিসেবে বাঙালি যখন পরাধীনতার গøানি অনুভব করে তখন স্বাধীনতার জন্য আকুতি প্রকাশ করে। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাঙালি ও এর আশেপাশের জনপদের যে পরাজয় হয়েছিল এরপর বাঙালির মধ্যে স্বাধীনতার আন্দোলন সংগ্রামের যাত্রা শুরু হয়েছিল তার সাথে একাত্তরের স্বাধীনতা আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ সেই যে বাঙালি স্বাধীনতা হারালো সেই স্বাধীনতাকে পুনরায় ছিনিয়ে আনার জন্য নানাদিকে আন্দোলন হয়েছে। বাঙালিরা করেছে, অবাঙালিদের মধ্যেও হয়েছে। কারণ তখন বাঙালিরা শুধু এই বাংলাদেশের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাই বাঙালির স্বাধীনতার স্পৃহার যে পর্ব সে পর্বকে ১৯০ বছরের একটি পর্ব হিসেবে প্রারম্ভিকভাবে চিন্তা করা যায়। সেটি ১৭৫৭-১৯৪৭। এই ১৯০ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের বাঙালিরা যেমন অংশগ্রহণ করেছে অবাঙালিরাও অংশগ্রহণ করেছে।
উপাচার্য আরও বলেন, আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুটো ঘটনা হলো বায়ান্ন সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও ৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রাম। সেখানে দুটোক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পাকিস্তানিরা মনে করেছিলÑব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরালে নিয়ে গেলেই হয়ত পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া যাবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কোনো ব্যক্তি নন তিনি ছিলেন একটি চেতনার জলন্ত প্রদীপ। দুটো সংগ্রামের ক্ষেত্রেই তার চেতনার দ্বারা তিনি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য তিনি ডেল্টা প্লান ঘোষণা করেছেন। আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রায় শামিল হয়েছে। আমাদের ঘোষিত শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নের মটো ইতোমধ্যেই অনেকে অনুসরণ করছে। আসলে এই সার্বজনীন ¯েøাগনকে সাথে নিয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠবেÑস্বাধীনতা দিবসে এই হোক প্রত্যয়।
আয়োজক কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার। আলোচনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি মো. মোকারেরম হোসেন মাসুম, ডিরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফাহাদুজ্জামান মো. শিবলী, কর্মচারী সমিতি (গ্রেড ১১-১৬) সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, কর্মচারী ইউনিয়ন ( গ্রেড ১৭-২০) সভাপতি রেজাউল করিম রানাসহ অন্যরা। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক কমিটির সদস্য-সচিব কল্যানাংশু নাহা। সঞ্চালনা করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল নাঈম ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুদুর রহমান। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় শিশুদিবসের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও স্বাধীনতা দিবসের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।
আলোচনা সভা শেষে শেখ রাসেল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ গ্রহণ করেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৪তম জন্ম বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস।

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

একুশের চেতনায় ভাষা ও দেশকে ভালোবেসে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে যথাযথ মর্যাদায় নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৪ পালিত হয়েছে। মোমবাতি প্রজ্বালন, কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কৃতজ্ঞচিত্তে ভাষা শহিদদের স্মরণ করেছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
দিবসটি উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ‘চির উন্নত মম শির’-এ মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ০২ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখরের ভবন সংলগ্ন শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর, আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার, আয়োজক কমিটির সদস্য-সচিব মাসুম হাওলাদারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর দিবসটি উপলক্ষ্যে ‘চির উন্নত মম শির’-এর বেদীতে উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখরের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর একে একে বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তর, হল প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু নীল দল, ডিরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মকর্তা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কর্মচারী সমিতি (গ্রেড ১১-১৬), কর্মচারী ইউনিয়ন (গ্রেড ১৬-২০), কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব ও ফোরামসহ অন্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কালো ব্যাজ ধারণ করার মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপরে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বেলা ১২টায় প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে দিবসটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর।
উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ভাষা শহিদ, ভাষা সৈনিক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক। এটি হঠাৎ করে ঘটেনি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠনের পর বঙ্গবন্ধুসহ একদল রাজনৈতিক কর্মী পূর্ব পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করতে কলকাতার সিরাজুদ্দৌলা হোস্টেলে জড়ো হন। পাকিস্তানে একটি নিরপেক্ষ রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগঠন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি প্রস্তাব সেখানে গৃহীত হয়েছিল। তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।
বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বজয়ের জন্য বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন পরিষদের নেতৃত্বের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে এবং একটি ঐক্যবদ্ধ ঘোষণাপত্রে অবদান রেখে বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৪৯ সালে ভাষা আন্দোলনের একাধিক উদ্যোগে জড়িত থাকার কারণে বঙ্গবন্ধু দুবার আটক হন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সার্বভৌম বাংলাদেশের উদ্বোধনী সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অনুমোদিত হয়। দেশের প্রথম সংবিধান লেখার জন্য বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। যা ছিল অভূতপূর্ব। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেয়ার মাধ্যমে একটি বিশ্বজয়ী কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছিলেন। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বজয়ে বঙ্গবন্ধুর এই কাজটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তব্যে উপাচার্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উদ্যোগ গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং একুশের চেতনায় ভাষা ও দেশকে ভালোবেসে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য ছাত্রছাত্রীদের তাগিদ দেন।
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস ২০২৪ উদ্যাপন কমিটির আহŸায়ক প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রিয়াদ হাসান। আলোচনা করেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি মো. মোকারেরম হোসেন মাসুম, ডিরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফাহাদুজ্জামান মো. শিবলী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ উদ্যাপন কমিটির সদস্য-সচিব মাসুম হাওলাদার।
দিবসটি উপলক্ষ্যে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইদিনব্যাপী কনফারেন্স এর সমাপ্তি

টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানাবিক মূল্যবোধসম্পন্ন টেকসই সভ্যতা বির্নিমাণের আহবান জানিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন: স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট প্রজন্ম গড়তে মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, আবিষ্কারমনস্কতা ও প্রগতি (3rd International Conference on Humanities and Social Sciences titled Promoting Human Values, Creativity, Innovation and Prosperity to build Smart Generation for Smart Bangladesh) শীর্ষক দুইদিনব্যাপী কনফারেন্স শেষ হয়েছে। সম্মেলনে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নবসৃষ্ট জ্ঞানকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর তাগিদও দেয়া হয়েছে। কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ দেশের নানা জায়গা থেকে দেশবরেণ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেছেন।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের তৃতীয় তলায় কনফান্সের সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে কনফারেন্সের পর্দা টানার ঘোষনা দেন কনফারেন্সের চিফ প্যাট্রন ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। একই সঙ্গে আগামী বছর চতুর্থবারের মতো আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, আমরা তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের একদম শেষ মুহুর্তে এসে উপনীত হয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই মিলনমেলা ভেঙ্গে যাবে। এই কনফারেন্সে যে ধরনের গবেষণা পেপার, তথ্য, উপাত্ত উপস্থাপিত হয়েছে তা সত্যিই অসাধারণ। আমাদের প্রত্যাশা এখানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষক, গবেষক এই কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, আমরা স্মার্ট, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। তাই এই কনফারেন্স আমাদের সেলক্ষ্য পূরণে ভবিষ্যতে সহায়তা করবে। ‘এক সঙ্গে কাজ করবো/ লক্ষ্য অর্জনে বেশি দূর আগাব মূলত এই কনফারেন্স থেকে আমরা সে শিক্ষাটাই পেয়েছি। আমাদের বিগত দুটো কনফারেন্সের চেয়ে এই কনফারেন্স আরও বেশি সফলতার সঙ্গে আয়োজন করতে পেরেছি। এজন্য কনফারেন্সে আগত বিদেশি অতিথি, দেশি-বিদেশী গবেষক, শিক্ষবিদসহ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকেই আমি ধন্যবাদ জানাই। আগামী বছর এমন একটি কনফারেন্সে আমরা সকলে ফের মিলিত হতে পারবো সেটিই আমাদের প্রতিশ্রুতি, যোগ করেন তিনি।
সমাপনী অধিবেশনে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. পবিত্র সরকার বলেন, দুইদিনব্যাপী এই কনফারেন্সের জ্ঞানের নানা শাখা প্রশাখা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্যাারালাল সেশনগুলোতে যে পেপার উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো ছিলো অত্যন্ত মানসম্পন্ন। গুণগতমান ও আয়োজনের আন্তরিকতা সবদিক থেকে অন্যতম সেরা কনফারেন্স হিসেবে এই কনফারেন্সটি ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অধিবেশনে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেম-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর টানইয়েল বি. টাইসি পিএইচ.ডি বলেন, আমি যখন কনফারেন্সে অংশ নিতে আসি তখন একজন আগন্তুক ছিলাম। এই সমাপনী সেশনে এসে বলতে পারি আমি অনেক বন্ধু বানিয়েছি। আদতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগ দিতে পেরে খুব গর্ব অনুভব করছি। একজন গবেষক হিসেবে কনফারেন্সের বিভিন্ন সেশনগুলোতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা আমার জন্য দারুণ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
সমাপনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহঅবায়ক ড. জিল্লুর রহমান পল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক কমিটির সদস্য-সচিব তানিয়া আফরিন তন্বী। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে এবারের আসরের পর্দা নামে।
উল্লেখ্য, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স নিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষাবিদ-গবেষকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালগুলো ও বিদেশ থেকে সর্বমোট ২৫০টি পেপার সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য জমা পড়ে। তারমধ্যে ৯৯টি পেপার গৃহীত হয়েছে। ভারত ও সোমালিয়া থেকেই ১৭টি পেপার গৃহীত হয়েছে। দুইদিনব্যাপী কনফারেন্সে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত প্যারালাল সেশন। এসব সেশনের মধ্য দিয়ে গবেষকরা তাদের গবেষণা পেপার উপস্থাপন করেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন

টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানাবিক মূল্যবোধসম্পন্ন টেকসই সভ্যতা বির্নিমাণের আহবান জানিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন: স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য স্মার্ট প্রজন্ম গড়তে মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা, আবিষ্কারমনস্কতা ও প্রগতি (3rd International Conference on Humanities and Social Sciences titled Promoting Human Values, Creativity, Innovation and Prosperity to build Smart Generation for Smart Bangladesh) শীর্ষক দুইদিনব্যাপী কনফারেন্স শেষ হয়েছে। সম্মেলনে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে নবসৃষ্ট জ্ঞানকে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর তাগিদও দেয়া হয়েছে। কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ দেশের নানা জায়গা থেকে দেশবরেণ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেছেন।
সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের তৃতীয় তলায় কনফান্সের সমাপনী অধিবেশনের মধ্য দিয়ে কনফারেন্সের পর্দা টানার ঘোষনা দেন কনফারেন্সের চিফ প্যাট্রন ও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। একই সঙ্গে আগামী বছর চতুর্থবারের মতো আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, আমরা তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের একদম শেষ মুহুর্তে এসে উপনীত হয়েছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই এই মিলনমেলা ভেঙ্গে যাবে। এই কনফারেন্সে যে ধরনের গবেষণা পেপার, তথ্য, উপাত্ত উপস্থাপিত হয়েছে তা সত্যিই অসাধারণ। আমাদের প্রত্যাশা এখানে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষক, গবেষক এই কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে উপকৃত হবেন।
তিনি বলেন, আমরা স্মার্ট, উন্নত ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। তাই এই কনফারেন্স আমাদের সেলক্ষ্য পূরণে ভবিষ্যতে সহায়তা করবে। ‘এক সঙ্গে কাজ করবো/ লক্ষ্য অর্জনে বেশি দূর আগাব মূলত এই কনফারেন্স থেকে আমরা সে শিক্ষাটাই পেয়েছি। আমাদের বিগত দুটো কনফারেন্সের চেয়ে এই কনফারেন্স আরও বেশি সফলতার সঙ্গে আয়োজন করতে পেরেছি। এজন্য কনফারেন্সে আগত বিদেশি অতিথি, দেশি-বিদেশী গবেষক, শিক্ষবিদসহ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকেই আমি ধন্যবাদ জানাই। আগামী বছর এমন একটি কনফারেন্সে আমরা সকলে ফের মিলিত হতে পারবো সেটিই আমাদের প্রতিশ্রুতি, যোগ করেন তিনি।
সমাপনী অধিবেশনে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. পবিত্র সরকার বলেন, দুইদিনব্যাপী এই কনফারেন্সের জ্ঞানের নানা শাখা প্রশাখা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্যাারালাল সেশনগুলোতে যে পেপার উপস্থাপন করা হয়েছে সেগুলো ছিলো অত্যন্ত মানসম্পন্ন। গুণগতমান ও আয়োজনের আন্তরিকতা সবদিক থেকে অন্যতম সেরা কনফারেন্স হিসেবে এই কনফারেন্সটি ভবিষ্যতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অধিবেশনে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেম-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর টানইয়েল বি. টাইসি পিএইচ.ডি বলেন, আমি যখন কনফারেন্সে অংশ নিতে আসি তখন একজন আগন্তুক ছিলাম। এই সমাপনী সেশনে এসে বলতে পারি আমি অনেক বন্ধু বানিয়েছি। আদতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে যোগ দিতে পেরে খুব গর্ব অনুভব করছি। একজন গবেষক হিসেবে কনফারেন্সের বিভিন্ন সেশনগুলোতে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা আমার জন্য দারুণ স্মৃতি হয়ে থাকবে।
সমাপনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহঅবায়ক ড. জিল্লুর রহমান পল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আয়োজক কমিটির সদস্য-সচিব তানিয়া আফরিন তন্বী। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে এবারের আসরের পর্দা নামে।

উল্লেখ্য, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স নিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষাবিদ-গবেষকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালগুলো ও বিদেশ থেকে সর্বমোট ২৫০টি পেপার সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য জমা পড়ে। তারমধ্যে ৯৯টি পেপার গৃহীত হয়েছে। ভারত ও সোমালিয়া থেকেই ১৭টি পেপার গৃহীত হয়েছে। দুইদিনব্যাপী কনফারেন্সে বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত প্যারালাল সেশন। এসব সেশনের মধ্য দিয়ে গবেষকরা তাদের গবেষণা পেপার উপস্থাপন করেন।