Published: 03-05-2026
Updated: 06-05-2026 03:25:02
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের আয়োজনে ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। ০৩ মে ২০২৬ তারিখ রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবনে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনীপর্বে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আজকে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। একইসাথে যাঁরা আমাদের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন সেই প্রখ্যাত শিল্পীদের নামে পুরস্কারের নামকরণ করায় তাঁদের স্মরণও করা হচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে চারুকলার অবদান কোনো অংশে কম নয়। সমাজ ও সংস্কৃতিকে উন্নয়নের জন্য চারুকলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’
সমাজ এবং সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল উল্লেখ করে মাননীয় উপাচার্য বলেন, ‘আমরা যেন তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবে আমাদের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে না যাই। আজ থেকে ৪০ বছর আগে আমাদের সমাজ যেমন ছিল তার অনেকটাই পরিবর্তন হচ্ছে। আবার আগামী ৪০ বছর পরে এখন থেকেও পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। তাই তোমাদের কৃতি শিক্ষকগণ সমাজে যেভাবে অবদান রাখছেন তোমরাও তেমনি বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি যেন হারিয়ে না যায়। তোমাদের কাজের মাধ্যমে ধরে রাখতে পারলে পরবর্তী প্রজন্ম এখান থেকে অনেক মূল্যবান উপাদান পাবে। আমি বিশ্বাস করি তোমাদের শিক্ষকগণ যেভাবে গড়ে তুলছেন এখান থেকে তোমরা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, এস এম সুলতান, পটুয়া কামরুল হাসানের মতো শিল্পী তৈরি হবে; যারা দেশের জন্য বিশ্বের যেকোন জায়গা থেকে সুনাম বয়ে আনবে। চারুকলার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতা তৈরি করা যায়। এই সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতা শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরির পাশাপাশি সমাজেও যেন এর প্রভাব তৈরি করা যায়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিজেদের উৎকর্ষতা অর্জনের সাথে সাথে সমাজ তথা দেশের উন্নতি লাভ করা সম্ভব বলে আমি মনে করি।’
বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী ও চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন)। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুম হাওলাদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. তপন কুমার সরকার। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০২৬ এ ড্রইং এন্ড পেইন্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন ও প্রিন্টমেকিং মোট তিনটি স্ট্রীমে ১৬ জন শিক্ষার্থীকে তাদের নিজ নিজ শিল্পকর্মের জন্য পুরস্কৃত করা হয়। মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার প্রদান করেন। ড্রইং এন্ড পেইন্টিং-এ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন পুরস্কার পেয়েছেন সিনথিয়া আক্তার শান্তা, শিল্পী এস এম সুলতান পুরস্কার পেয়েছেন অরিন সাহা, নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন বিশাল পাল এবং সম্মান পুরস্কার পেয়েছেন সৌভিক ঢালী ও স্বপ্নীল পাল। গ্রাফিক ডিজাইনে শিল্পী কামরুল হাসান পুরস্কার পেয়েছেন তাশফিয়া সামিহা সুপ্তি, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী পুরস্কার পেয়েছেন হাসিব সিদ্দিকী, নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন ইসরাত জাহান অনন্যা ও সম্মান পুরস্কার পেয়েছেন মুন্নি চক্রবর্তী। প্রিন্ট মেকিং এ শিল্পী শফিউদ্দিন আহমেদ পুরস্কার পেয়েছেন জুবায়ের আহমেদ, শিল্পী মোহাম্মদ কিবরীয়া পুরস্কার পেয়েছেন ফারিয়া কবীর, নিরীক্ষাধর্মী পুরস্কার পেয়েছেন রিপন রায় ও সম্মান পুরস্কার পেয়েছেন থোয়াই অং সিং মারমা ও তাসনিম আরা। এছাড়া সেরা মাধ্যম পুরস্কার (পেন্সিল) সামং মারমা ও মাধ্যম পুরস্কার (পেন্সিল) সম্মান মো. সাদমান হাবিব সামি। প্রদর্শনীতে চারুকলা বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের আকাঁ ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে।